সর্বশেষ

Saturday, January 10, 2026

নির্বাচন ভন্ডুলের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে: মুনিরা খান

নির্বাচন ভন্ডুলের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে: মুনিরা খান



যারা নির্বাচন ভন্ডুলের অপচেষ্টা চালাতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।

মুনিরা খান বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না তবে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যাহত করতে একটি মহল তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন ভন্ডুলের চেষ্টা হতে পারে এবং যারা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ‘থ্রি এম’—মানি, মাসল ও ম্যানিপুলেশন—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতা অপরিহার্য। অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও একটি ভালো নির্বাচনের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।


তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা ও হাবিবুল আওয়াল সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করতে পারতেন। তারা শপথ ভঙ্গ করে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। 

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল প্রতীক দেখে নয়, ইশতেহার ও প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দিতে হবে। তা না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বদলে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসতে পারে।


স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে মনিরা খান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিধান পরিবর্তন করা প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নে সব রাজনৈতিক দল সম্মত হলেও বাস্তবে কেউই তা অনুসরণ করেনি। জামায়াতে ইসলামী একজনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।  

ছায়া সংসদের সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায়। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ পাবে ভোটাররা। প্রকৃত ভোটের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্ত হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র গড়ে উঠবে—যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 


তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল নির্বাচন দিয়েই স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান সম্ভব নয়। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে শুধু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট হবে না।


হাসান কিরণ আরও বলেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়। সাধারণ মানুষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও শান্তি চায়। তারা আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করে। মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার বাস্তবায়িত হলেই জনগণ সন্তুষ্ট থাকবে।


ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, মশিউর রহমান খান, জাকির হোসেন লিটন ও কাওসারা চৌধুরী কুমু। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।


Saturday, December 20, 2025

ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে হাদিকে হত্যা

ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে হাদিকে হত্যা



নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান। 
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এফডিসিতে ‘তরুণ ভোটাররাই হবে আগামী নির্বাচনে জয়—পরাজয়ের নিয়ামক’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 
 জাহেদ উর বলেন, এটি একটি টার্গেটেড কিলিং। এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না হাদির হত্যাকাণ্ডে দুঃখ পায়নি। হাদির মৃত্যুর পর যে এনআরকি তৈরি হয়েছে- তা দুঃখজনক।’‘
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার নিয়ে সমালোচনা থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু হাদিকে যারা ভালোবাসেন তারা তার মৃত্যুতে এই গণমাধ্যম দুটিতে ভাঙচুর করে আগুন দিতে পরেন না। এই ঘটনায় সরকার ভালো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এর পেছনে দেশি-বিদেশি অপশক্তি জড়িত রয়েছে। আমাদের মধ্যে যখন কোনো অনৈক্য তৈরি হয়, এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হুমকি দেয়, তখন ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপ সুযোগ নেয়। বাংলাদেশে এখন নানা ভেস্টেড গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেশের স্থিতিশীলতা চায় না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। 


সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ওসমান হাদিকে বাঁচানো যায়নি। তার হত্যাকান্ডে আমরা ব্যাথিত, মর্মাহত, লজ্জিত ও শঙ্কিত। হাদির হত্যাকারিরা ইতিহাসে কাপুরুষ হিসেবে ঘৃণিত হয়ে থাকবে। এই হত্যাকান্ড জাতির জন্য এক মর্মান্তিক কালো অধ্যায় হিসেবে রচিত হবে। হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেয়া যাবে না। হাদির রক্ত বৃথা গেলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ব্যর্থ হবে। পরাজিত ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেলেও তাদের দোসররা এখনো হুমকি—ধামকি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে হাদিকে হত্যা করা হয়। হাদি হত্যাকান্ডের পর জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি উঠেছে। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সরকার এসএসএফ এর মাধ্যমে তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলে আশা করি।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে “তরুণ ভোটাররাই হবে আগামী নির্বাচনে জয়—পরাজয়ের নিয়ামক” শীর্ষক ছায়া সংসদে বিচারক ছিলেন সাংবাদিক কাজী হাফিজ, মো: আলমগীর হোসেন, জাকির হোসেন লিটন, কাজী জেবেল ও মো: আতিকুর রহমান। 
প্রতিযোগিতায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজকে পরাজিত করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Saturday, December 6, 2025

ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণে দায় আছে: রাজউক চেয়ারম্যান

ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণে দায় আছে: রাজউক চেয়ারম্যান

 


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, “ঢাকা শহরে যত ত্রুটিপূর্ণ ভবন গড়ে উঠেছে, তার দায় রাজউক এড়াতে পারে না। ফলে রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার অবস্থান অনেকটা আসামির মতো বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। 

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘ভবন মালিকদের দায়িত্বশীলতাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, নকশা অনুমোদন ও তদারকি দুটোই রাজউক করে থাকে। এক্ষেত্রে তদারকির দায়িত্ব অন্য সংস্থাকে দিলে আরও যুক্তিযুক্ত ও কার্যকর হবে। তিনি বলেন, ভূমিকম্প রোধে কেবল রাজউক নয়, সরকারের অনেক সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে কসাইটুলির ত্রুটিপূর্ণ ভবন মালিককে এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ওই এলাকার ভবন মালিকেরা তাদের সমস্যা সমাধানে রাজউককে সহযোগিতা করছে।


মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ভবন নির্মাণকারীদের বিদ্যুতের মিটার জব্দ করা হচ্ছে। এতে সুফল পাওয়া না গেলে মামলা ও ভবন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রকৌশলী ও স্থপতিরা উপযুক্ততা নিশ্চিত না করে ভবনের নকশায় স্বাক্ষর করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, যারা তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক প্লট নিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কেরাণীগঞ্জ, বসিলা, ডেমরাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাট করে যেসব হাউজিং কোম্পানি অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করছে তাদের ব্যাপারে রাজউকের অবস্থান কঠোর।



অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকিপ্রবণ এই দেশে অচিরেই বড় বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের আতঙ্ক আছে কিন্তু সচেতনতা নেই। বর্তমান বিল্ডিং কোড সময় উপযোগী নয়। এটি আধুনিকায়ন করতে হবে। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় শর্টটাইম এবং লংটাইম রোডম্যাপ করা জরুরি। বিগত সরকারের আমলে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরীতে প্রচুর অর্থ খরচ করা হলেও প্রস্তুতিতে তেমন কোন কাজ হয়নি। ভূমিকম্পের ঝুঁকি রোধে সম্পৃক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গলদ আছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই এক্ষেত্রে বড় বাধা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রায় সবাই আমলা। সেখানে কোন ইঞ্জিনিয়ার বা জিওলোজিস্ট নাই। 


রাজউকের আওতাধীন থাকা স্বত্বেও ভবন নিমার্ণে ঢাকার আশেপাশের গজে উঠা হাউজিং কোম্পানীগুলো বিল্ডিং কোড, নকশার তোয়াক্কা করছে না বলেন কিরণ। তিনি বলেন, কোন রকম নিয়মনীতি না মেনে যে যার মতো করে ১৫ তলা ২০ তলা ভবন নির্মান করছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা স্বত্বেও রাজউক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। অবৈধ ভবণ নিমার্ণের সাথে রাজউকের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। রাজউকের অনিয়ম বন্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। টাকা ছাড়া রাজউকে কোন কাজ হতো না। তবে বিগত সময়ের দুর্নীতি রাতারাতি সংশোধন করা কঠিন। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরো বলেন, ভবন মালিকের ক্যাপাসিটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে, ভূমিকম্প ঝঁুকি মোকাবেলায়  সরকারকেই প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। সরকার যে রাস্তাঘাট, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, এলিভেটর এক্সপ্রেস নির্মাণসহ গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন তৈরি করছে সেগুলিও ভূমিকম্প সহনশীল হতে হবে।


ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে “ভবন মালিকদের দায়িত্বশীলতাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে” শীর্ষক ছায়া সংসদে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এর বিতার্কিকদের পরাজিত করে শহিদ বীর—উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ এর  বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। 


প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মাসুদ করিম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক ড. শাকিলা জেসমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Monday, December 1, 2025

মিজান শাজাহানের মায়ের মৃত্যুতে ডিআরইউর শোক

মিজান শাজাহানের মায়ের মৃত্যুতে ডিআরইউর শোক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার মিজান শাজাহানের মা মরিয়ম বেগম গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন তিনি। বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মরিয়ম বেগম। তিনি স্বামী মাস্টার আব্দুল খালেক, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি, পুত্রবধূ ও জামাতাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

অনেকেই অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন: সাইফুল হক

অনেকেই অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন: সাইফুল হক



আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন, তারাই ভোটপ্রক্রিয়া ভণ্ডুল ও অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশি শক্তির খেলা বন্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর এফডিসির কনফারেন্স কক্ষে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, বিগত সংসদের মতো আগামী সংসদেও বড় একটি অংশ জুড়ে থাকবে ধনী ও কালো টাকার মালিকরা। এতে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য পরোক্ষভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করেই আরপিও চূড়ান্ত করা হয়েছে, জামানতের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয়সীমা ২৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৫-৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। গত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ব্যবস্থা উৎখাত করতে দুই হাজারের বেশি শহীদের রক্ত দিতে হয়েছে। তবে এবার অন্তত ভীতি-হুমকি-প্রলোভন ছাড়া জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “দুই-এক জায়গায় জঙ্গি মিছিল বা বাস-ট্রাকে আগুন দিয়ে কোনো অপশক্তি নির্বাচন আটকাতে পারবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের যে তর্ক-বিতর্ক চলছে তাতে আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে না। তাদের এই মত-দ্বিমতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে যাতে দুর্নীতির পালাবদল না হয়।” তিনি আরও বলেন, “এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কথা রয়েছে। যদি নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা দায়িত্বশীল আচরণ না করে, তাহলে অতীতের মতো ধানক্ষেতে-পাটখেতে ভোটের বাক্স পাওয়া যেতে পারে। যা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে যারা এবার সরকার গঠন করবে তারা বিরোধী দল ও মতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন বলে বিশ্বাস করি।”

ছায়া সংসদের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইডেন মহিলা কলেজ এবং রানার-আপ হয়েছে ঢাকা কলেজ।

Sunday, November 2, 2025

সরকার তরুণদের সুবিধা দিয়ে বিপথে নিয়েছে: সুব্রত চৌধুরী

সরকার তরুণদের সুবিধা দিয়ে বিপথে নিয়েছে: সুব্রত চৌধুরী



গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে কিছু তরুণকে বিপথগামী করেছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা জুলাইযোদ্ধাদের দ্বৈতনীতির পরিচায়ক। এনসিপির উচিত দরকষাকষি না করে অবিলম্বে সনদে সই করা।

শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় তরুণকে সুবিধা দিয়ে বিপথগামী করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘তারা ডিসি, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খবরদারি করছে। সরকারের অভ্যন্তরে আরেকটি সরকার গড়ে উঠেছে। ফলে সংস্কার প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’গণভোট ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের মতপার্থক্য নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা নাকচ করে তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। যারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেন, তাদের জানাই—জাতীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোট পড়লে তা অংশগ্রহণমূলক বলে গণ্য হবে।’ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে মনোনয়ন ও পদ বাণিজ্য বন্ধ করুন। দলের অভ্যন্তরে সংস্কার ও গণতন্ত্রায়ন অপরিহার্য। মেধাবীদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সংসদ গঠন করতে হবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘সহিংস আন্দোলন’ বলে দেওয়া সাক্ষাৎকারকে ‘হাস্যকর ও ছেলেমানুষি’ আখ্যা দিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত থাকবে। তিনি গণহত্যা করে পলাতক। ভারতকে অনুরোধ করব, তাকে আশ্রয় দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের সুযোগ দেবেন না। তাকে নিবৃত্ত করুন। আমাদের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করবেন না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা রক্ত, জীবন, পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্বের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ উৎখাত করেছে। জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের বাংলাদেশ। যে ঐক্যের বলে জুলাই অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল, সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সেই ঐক্যে এখন ফাটল ধরেছে।
জুলাই সনদকে ‘জাতির ঐতিহাসিক দলিল ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ উল্লেখ করে হাসান আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সনদ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। জুলাইয়ের চেতনা ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র ব্যর্থ হবে, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হবে। এ দায় কেউ এড়াতে পারবে না—বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি কেউই নয়।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে জনগণ ঐক্যের বাংলাদেশ চেয়েছিল। কিন্তু সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর তীব্র মতভেদ অনৈক্যের বাংলাদেশ তৈরি করছে। এতে ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে এলে কোনো দলই প্রতিশোধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না। সুতরাং ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য এখন অপরিহার্য।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ জানান, দেশি-বিদেশি অপশক্তি আসন্ন নির্বাচন ভন্ডুল করতে ষড়যন্ত্র করছে, বিভাজনের রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। বর্তমানে ত্রিমুখী রাজনৈতিক সংগ্রাম চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জাতিকে স্বস্তি দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে শুধু দল নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণেও কাজ করতে হবে।

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি কাঠামোর চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা বেশি জরুরি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) চ্যাম্পিয়ন হয়। বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Saturday, October 25, 2025

গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি : শিরীন পারভিন হক

গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি : শিরীন পারভিন হক



গৃহকর্মীদের মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রধান শিরীন পারভিন হক। আগামীতে যারা সরকার গঠন করবেন, তাদের কর্মপরিকল্পনায় ন্যায়পাল নিয়োগ এবং গৃহকর্মী সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) এফডিসিতে গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের যৌথভাবে আয়োজিত ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন নেটস বাংলাদেশ ও এডুকেশন আউট লাউড। সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

শিরীন পারভিন হক বলেন, নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে গৃহকর্মীদের অধিকারের কথা বলা হয়নি, তবে বলা উচিত ছিল। তাদের বেতন কাঠামো নিয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়নি। জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনা করে গৃহকর্মীদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হওয়া উচিত। তাদের অধিকার রক্ষায় স্বতন্ত্র ন্যায়পাল নিয়োগ করা হলে জবাবদিহিতার চর্চা গড়ে উঠবে। গৃহকর্মীর মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

তিনি বলেন, আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে তাদের কর্মপরিকল্পনায় ন্যায়পাল নিয়োগ এবং গৃহকর্মী সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করি। অনেক ক্ষেত্রেই গৃহকর্মীদের বুয়া হিসেবে সম্বোধন করা হয়। এই ধরনের অমর্যাদামূলক ও আপত্তিকর শব্দ পরিহার করা উচিত। গৃহকর্মীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে তাদের সামাজিক স্বীকৃতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, একটি স্বৈরাচার সমাজব্যবস্থার ভেতরে একটি সংবেদনশীল, যত্নশীল পলিসি প্রত্যাশা করা যায় না। বিগত সরকারের আমলে গৃহকর্মীদের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার কোনো কিছুই করেনি। গৃহকর্মীদের জন্য একটি নীতি প্রণয়ন করলেও তা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে গৃহকর্মীরা ব্রিটিশ দাসপ্রথার মতোই দাস দাসী হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। ফলে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ও স্বীকৃতি থেকে এখনো বঞ্চিত। গৃহকর্মীরা পারিশ্রমিক, কর্মঘণ্টা, চিকিৎসা, ছুটি ও বিনোদনসহ কোনোটাই তারা অন্যান্য কর্মজীবী মানুষের মতো পাচ্ছে না। সময়ের পরিক্রমায় দাসপ্রথা বিলুপ্ত হলেও, গৃহকর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ দেখে মনে হয় এটি সভ্য সমাজ ব্যবস্থার দাসপ্রথার নব্য সংস্করণ।

তিনি বলেন, আমরা গৃহকর্মীদের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন করতে না পারলে রাষ্ট্র যতই গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুক না কেন আমরা এই রাষ্ট্রকে মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বলতে কষ্ট হবে। একা সরকারের পক্ষে সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ, এনজিও এবং গণমাধ্যমসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ব্যতিত গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষা সম্ভব নয়। এ কারণে আগামী নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সমাজের অনগ্রাসর জনগোষ্ঠী গৃহকর্মীদের বেতন-ভাতা, ছুটি এবং বোনাসসহ অন্যান্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রম্নতি প্রদান করে তাহলে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও সমর্থন বাড়বে। আমাদের দুঃখবোধ হয় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের কোনো সংসদে গৃহকর্মীদের অধিকার নিয়ে কোনো কথা হয়নি, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংসদ সদস্যরা সংসদে সোচ্চার হননি।

তিনি আরও বলেন, আশা করি হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে যে সংসদ গঠিত হবে সেই সংসদে অত্যন্ত সংবেদনশীল গৃহকর্মীদের অধিকারসহ ন্যায্য দাবি আদায়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে সংসদে যারা নারী সদস্য থাকবেন তারা গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় অন্যান্য সাংসদদের নিয়ে ককাস গঠন করবে। যে কোনো গৃহকর্মীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ গৃহকর্মীর অধিকার সুরক্ষায় নিম্নের ১০ দফা সুপারিশ করেন: ১.উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহকর্মীদের শ্রম আইনের অন্তভুর্ক্ত করায় তাদের বেতন, বোনাস, কর্মঘণ্টা, ছুটি দ্রুত শ্রম আইন অনুযায়ী বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২. নিয়োগদাতা ও গৃহকর্মীর মধ্যে কাজের ধরন, সময়, বেতন, ছুটি ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক লিখিত চুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক করা। ৩. গৃহকর্মীদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ও এনজিওগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সহজে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা। ৫. গৃহশ্রমিক নিবন্ধন ও তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। ৬. গৃহকর্মীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্যবীমা, দুর্ঘটনা বীমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা। ৭. গৃহকর্মীদের প্রতি মানবিক হতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যম, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচার—প্রচারণা চালানো। ৮. আহত অথবা নিহত গৃহকর্মীর পরিবারের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। ৯. শিশু গৃহকর্মী নিয়োগ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। ১০. নির্যাতিত, চাকরি হারানো গৃহকর্মীদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবাসহ আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও গণসাক্ষরতা অভিযানের যৌথ অয়োজনে ‘আইন করে নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই গৃহকর্মীর অধিকার সুরক্ষা করতে পারে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি’র বিতার্কিকদের পরাজিত করে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, ড. এস এম মোর্শেদ, কবি জাহানারা পারভীন ও সাংবাদিক মো. আল-আমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।